ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : কুমিল্লায় চিনি বোঝাই ট্রাক ছিনতাই ও চালক আলাউদ্দিন হত্যার মূল হোতাসহ পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে লুণ্ঠিত চিনি ও অপরাধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামসুল আলম শাহ।
গ্রেফতাররা হলেন নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার মৃত আবদুল্লাহর ছেলে নুর হোসেন মুন্না (২৮), চট্টগ্রাম জেলার হারুয়ালছড়ি এলাকার রুপম বড়ুয়ার ছেলে মিন্টু বড়ুয়া (৩৬), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা গ্রামের মো. শাহাদাত হাসন রকি (২৬), ফেনী সদরের ইজ্জতপুর গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৫৫) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মো. বাবুল (৩৯)।
তিনি জানান, ১৫ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকিজ কোম্পানির ২৭ টন সাদা চিনি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে চালক আলাউদ্দিন চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে ঢাকা গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
ট্রাকে থাকা চিনির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে ট্রাকটি নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছানো এবং চালকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে ট্রাকের মালিক নাজমুল হাসান জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেন। পরদিন ১৭ জানুয়ারি দুপুরে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার বড় কাঁচি এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। ট্রাকের ভেতরে প্রবেশ করে চালকের সিটের পেছনে কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আলাউদ্দিনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ধারণা করা হয়, ডাকাত দল তাকে হত্যা করে ট্রাকে থাকা চিনি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। এ ঘটনায় ট্রাক মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত চিনি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত চিনি ৯৯ বস্তা, চিনির খালি বস্তা ৮৪টি এবং প্যাকেজিং কাজে ব্যবহৃত দুটি ইলেকট্রিক মেশিন।
ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ আরও জানান, গ্রেফতারদের আদালতে প্রেরণ করা হলে তাদের মধ্যে দু’জন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।








